সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

 হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা:

হৃদরোগ (Heart Disease) কী?

হৃদরোগ (Heart Disease) হল এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃদপিণ্ড এবং এর সাথে সম্পর্কিত রক্তনালীগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এটি বিভিন্ন ধরণের হতে পারে, যেমন হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, বা জন্মগত হৃদরোগ।

📌 হৃদরোগের প্রকারভেদ:

1) করোনারি আর্টারি ডিজিজ (Coronary Artery Disease - CAD)

হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে (Coronary Artery) চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে সংকুচিত হয়ে গেলে এটি ঘটে।
এটি হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ।
উপসর্গ: বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি।

2) হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction)

যখন হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন হার্ট অ্যাটাক হয়।
উপসর্গ: তীব্র বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা।

3) হার্ট ফেইলিউর (Heart Failure)

যখন হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করতে অক্ষম হয়, তখন এটি হয়।
উপসর্গ: অতিরিক্ত ক্লান্তি, পা ও পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট।

4) অ্যারিথমিয়া (Arrhythmia)

হৃদস্পন্দনের গতি অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত বা ধীর হয়ে গেলে এটি হয়।
উপসর্গ: বুকে ধুকপুকানি, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

5) উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ (Hypertensive Heart Disease)

দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হৃদরোগের কারণ হয়।
উপসর্গ: মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বুকে ব্যথা।

6) জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease)

জন্ম থেকেই হৃদপিণ্ডের গঠনগত ত্রুটি থাকলে এটি হয়।
উপসর্গ: শিশুদের শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি।

 

📌 হৃদরোগ কেন হয়? (মূল কারণ)

🔹 উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল
🔹 ডায়াবেটিস
🔹 ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ
🔹 মোটা হওয়া (Obesity)
🔹 পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা
🔹 অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
🔹 অস্বাস্থ্যকর খাবার (ফাস্ট ফুড, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার)
🔹 বংশগত কারণ (Family History)

 

 

📌 হৃদরোগের সাধারণ লক্ষণ:

হৃদরোগ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়

1.    বুকে ব্যথা বা চাপ (Angina)বিশেষ করে বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে ভারী অনুভূতি বা চাপ লাগা।

2.    শ্বাসকষ্ট (Shortness of Breath)হাঁটাহাঁটি বা সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

3.    হাত, পা ও পায়ের পাতায় ফুলে যাওয়াশরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে হতে পারে।

4.    অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Arrhythmia)হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক কমে বা বেড়ে যাওয়া।

5.    বমিভাব ও মাথা ঘোরাশরীরে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন না হলে হতে পারে।

6.    অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতাপর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও অবসন্ন অনুভব করা।

7.    ঠান্ডা ঘাম ও মাথা ঘোরাবিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

📌 হৃদরোগের কারণ:

1.    অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপধমনীতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হতে পারে।

2.    ডায়াবেটিসরক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ হৃদপিণ্ডের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

3.    ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণহৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করে।

4.    অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তারক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

5.    ওজন বৃদ্ধি ও ব্যায়ামের অভাবহৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমায়।

6.    বংশগত কারণযদি পরিবারে কারো হৃদরোগ থাকে, তাহলে ঝুঁকি বেশি থাকে।

7.    অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা ফাস্ট ফুড গ্রহণউচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে।

📌 হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা:

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা হৃদরোগের কারণ ও লক্ষণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। কিছু কার্যকর ওষুধ নিচে দেওয়া হলো

হৃদরোগের সাধারণ ওষুধ:

1.    Crataegus Oxyacantha Qহৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

2.    Cactus Grandiflorus 30/200যদি বুকে শক্ত ব্যথা হয় বা বুক চেপে ধরার অনুভূতি হয়।

3.    Digitalis Purpurea 30যদি হৃদস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হয় এবং রোগী ভয় পান।

4.    Aurum Metallicum 30উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগের জন্য কার্যকরী।

5.    Glonoinum 30উচ্চ রক্তচাপের কারণে মাথা ভারী অনুভব হলে ভালো কাজ করে।

6.    Naja Tripudians 30হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়লে এবং অল্পতেই ক্লান্তি অনুভব হলে ব্যবহৃত হয়।

7.    Adonis Vernalis Qহৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের জল জমার (Congestive Heart Failure) ক্ষেত্রে কার্যকর।

উচ্চ রক্তচাপের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ:

1.    Baryta Mur 30বয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের দুর্বলতার জন্য।

2.    Veratrum Viride 30উচ্চ রক্তচাপজনিত মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার জন্য।

3.    Rauwolfia Serpentina Qউচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।

হৃদস্পন্দনের সমস্যা (Arrhythmia) জন্য:

1.    Lachesis 200যদি রোগী অনুভব করেন যে হৃদপিণ্ড খুব দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে।

2.    Gelsemium 30দুর্বল হৃদস্পন্দন ও নার্ভাসনেস কমায়।

📌 জীবনযাত্রা পরিবর্তন ও পরামর্শ:

কম লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার খান (ফল, শাকসবজি, বাদাম, মাছ বেশি খান)।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন (হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম)।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
মানসিক চাপ কমান (মেডিটেশন ও পর্যাপ্ত ঘুম নিন)।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।

⚠️ সতর্কতা:

হৃদরোগ গুরুতর সমস্যা হতে পারে, তাই স্ব-চিকিৎসার পরিবর্তে অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি বুক ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।

চেম্বার:
ডাঃসামসুল হক
ডি.এইচ.এম.এস(বিএইচবি),বিএসসি (অনার্স),এমএসসি
বাসা-১৬,রোড-১২/বি,সেক্টর-১০,উত্তরা,ঢাকাMobile: 0153 458 8941
(What’s app & Telegram)
Email:
haque31574@gmail.com.
(
অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগের সেবা দেওয়া হয়)

বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ, কারণ ও হোমিওপ্যাথি ঔষুধ

 

বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ, কারণ ও হোমিওপ্যাথি ঔষুধ

বন্ধ্যাত্ব (Infertility) হল সন্তান ধারণে অক্ষমতা। সাধারণত, এক বছর ধরে নিয়মিত ও অরক্ষিত যৌন মিলনের পরও গর্ভধারণ না হলে এটিকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়।

পুরুষ ও মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ ও কারণ ভিন্ন হতে পারে।

📌 মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ:

1.    অনিয়মিত মাসিক বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া

2.    প্রচণ্ড ব্যথাযুক্ত মাসিক

3.    হরমোনজনিত পরিবর্তন (ত্বক বেশি তৈলাক্ত হওয়া, চুল পড়া, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, মুখে অবাঞ্ছিত লোম গজানো ইত্যাদি)

4.    যৌনমিলনে ব্যথা অনুভব করা

5.    বারবার গর্ভপাত হওয়া

📌 পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ:

1.    বীর্যের পরিমাণ কমে যাওয়া বা দুর্বল হওয়া

2.    লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা (ইরেকটাইল ডিসফাংশন)

3.    যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া

4.    শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যাওয়া

5.    শুক্রাশয়ে (Testicles) ব্যথা বা ফোলা অনুভব করা

 📌 বন্ধ্যাত্বের কারণ:

মহিলাদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ:

1.    ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) সংক্রান্ত সমস্যাযেমন PCOS (Polycystic Ovary Syndrome), থাইরয়েড সমস্যা।

2.    ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াআগের সংক্রমণ বা সার্জারির কারণে হতে পারে।

3.    এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis)জরায়ুর টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পাওয়া।

4.    জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের টিউমার বা সিস্ট

5.    অতিরিক্ত ওজন বা অত্যধিক ওজন কম হওয়া

6.    বয়স বেড়ে যাওয়া (৩৫ বছরের পর মহিলাদের উর্বরতা কমতে থাকে)

পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ:

1.    শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণগত মান কম হওয়া

2.    অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেশি থাকা (যেমন টাইট পোশাক পরা, বেশি গরম পানিতে স্নান করা, ল্যাপটপ দীর্ঘক্ষণ কোলে রাখা ইত্যাদি)

3.    হরমোনজনিত সমস্যা (যেমন টেস্টোস্টেরন হ্রাস)।

4.    ধূমপান, মদ্যপান, বা মাদকদ্রব্য গ্রহণ

5.    কোনো পূর্ববর্তী যৌন সংক্রমণ (যেমন ক্ল্যামিডিয়া বা গনোরিয়া)

6.    অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচার

📌 প্রতিকার ও চিকিৎসা:

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম করা।
ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা।
মানসিক চাপ কমানো।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধ গ্রহণ করা।
প্রজনন সহায়তা চিকিৎসা (যেমন IVF, IUI) গ্রহণ করা।

 

বন্ধ্যাত্বের জন্য কিছু সাধারণ হোমিওপ্যাথি ওষুধ

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়। তবে, নিচে কিছু সাধারণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ দেওয়া হলো যা বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

📌 মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ:

1.    Sepia 200/30যদি মাসিক অনিয়মিত হয়, যৌন ইচ্ছা কমে যায়, এবং অতিরিক্ত সাদাস্রাব থাকে।

2.    Pulsatilla 30/200যদি মাসিক অনিয়মিত বা বিলম্বিত হয় এবং স্বাভাবিক ডিম্বস্ফোটন না হয়।

3.    Calcarea Carbonica 200যদি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায়, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারেন, এবং মাসিকের সমস্যায় ভোগেন।

4.    Lycopodium 200যদি গ্যাসের সমস্যা বেশি থাকে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, বা ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকে।

5.    Agnus Castus 30যদি যৌন ইচ্ছা কমে যায় এবং ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা থাকে।

6.    Natrum Muriaticum 200যদি মানসিক চাপ বা অতীতের মানসিক আঘাতের কারণে বন্ধ্যাত্ব হয়।

7.    Oophorinum 3X/6Xপলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

📌 পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ:

1.    Agnus Castus 30/200যদি যৌন দুর্বলতা ও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়।

2.    Caladium 30যদি লিবিডো কম থাকে, কিন্তু শারীরিকভাবে সক্ষম হন।

3.    Conium Maculatum 30যদি অণ্ডকোষ দুর্বল হয় বা শুক্রাণুর গতিশীলতা কম থাকে।

4.    Damiana Qযদি যৌন দুর্বলতা ও শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যায়।

5.    Lycopodium 200যদি আত্মবিশ্বাস কমে যায়, মানসিক চাপ থাকে, এবং হরমোনজনিত সমস্যা হয়।

6.    Selenium 30যদি শুক্রাণুর সংখ্যা কম হয় এবং দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা থাকে।

7.    Nuphar Luteum Qযদি যৌন দুর্বলতা ও বীর্য উৎপাদন কম হয়।

⚠️ সতর্কতা:

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা রোগীর নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। সঠিক ওষুধ এবং মাত্রার জন্য অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

চেম্বার:
ডাঃসামসুল হক
ডি.এইচ.এম.এস(বিএইচবি),বিএসসি (অনার্স),এমএসসি
বাসা-১৬,রোড-১২/বি,সেক্টর-১০,উত্তরা,ঢাকাMobile: 0153 458 8941
(What’s app & Telegram)
Email:
haque31574@gmail.com.
(
অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগের সেবা দেওয়া হয়)

রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৫

স্নায়ূর ক্যান্সার বা নিউরোব্লাস্টোমা

 

স্নায়ূর ক্যান্সার বা নিউরোব্লাস্টোমা

নিউরোব্লাস্টোমা হল এক ধরণের ক্যান্সার যা অপরিণত স্নায়ু কোষ (immature nerve cells) দ্বারা সৃষ্ট হয় যা শরীরের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই অবস্থাটি সাধারণত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলির এবং এর আশেপাশে দেখা দেয়। তবে এটি পেটের অন্যান্য জায়গাগুলির পাশাপাশি বুক, ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের কাছাকাছি জায়গায়ও দেখা দিতে পারে, যেখানে স্নায়ু কোষগুলির গ্রুপ রয়েছে।

সাধারণত নিউরোব্লাস্টোমা পাঁচ বছরের বা তার চেয়ে কম বয়সী বাচ্চাদের প্রভাবিত করে তবে এটি কখনও কখনও বড় বাচ্চাদের মধ্যেও ঘটে।

নিউরোব্লাস্টোমার কয়েকটি ফর্ম তাদের নিজেরাই অদৃশ্য হয়ে যায় তবে অন্যদের একাধিক চিকিত্সার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিত্সা সাধারণত বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে।

লক্ষণ(Symptoms)

শরীরের যে অংশটি প্রভাবিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে নিউরোব্লাস্টোমার সংকেত ও লক্ষণগুলি পৃথক হতে পারে।

পেটে নিউরোব্লাস্টোমা (Neuroblastoma in the abdomen): নিউরোব্লাস্টোমার সর্বাধিক সাধারণ রূপ হল পেটের নিউরোব্লাস্টোমা, যা নিম্নলিখিত সংকেত ও লক্ষণগুলির কারণ হতে পারে যেমন-

  • পেটে ব্যথা
  • ত্বকের নীচে একটি ভর যা স্পর্শকালে কোমল হয় না
  • অন্ত্র অভ্যাসের পরিবর্তন যেমন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

 বুকে নিউরোব্লাস্টোমা (Neuroblastoma in the chest): এটি নিম্নলিখিত সংকেত এবং লক্ষণগুলির কারণ ঘটায়

  • বুক ব্যাথা
  • হুইজিং (Wheezing)
  • চোখের পরিবর্তন; এর মধ্যে রয়েছে চোখের পলক এবং অসমান পুতুলের আকার

 নিউরোব্লাস্টোমা নির্দেশ করতে পারে এমন অন্যান্য সংকেত ও লক্ষণগুলির মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি রয়েছে:

  • ত্বকের নিচে টিস্যুগুলির গলিত
  • চোখের বলগুলি সকেট(sockets) থেকে প্রসারিত বলে মনে হচ্ছে
  • জ্বর
  • অব্যক্ত ওজন হ্রাস
  • চোখের চারপাশে ঘাগুলির মতো অন্ধকার চেনাশোনা
  • পিঠে ব্যাথা
  • হাড়ের ব্যথা

কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহ:

🔹 জিনগত ত্রুটি বা বংশগত প্রবণতা

🔹 বিকিরণ (Radiation)

🔹 বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ

🔹 দীর্ঘদিনের ইমিউন সিস্টেমের দুর্বলতা

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা:

সার্জারি (Surgery) – টিউমার অপসারণের জন্য শল্যচিকিৎসা

রেডিয়েশন থেরাপি (Radiation Therapy) – উচ্চ শক্তির রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা

কেমোথেরাপি (Chemotherapy) – ওষুধের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস

ইমিউন থেরাপি (Immunotherapy) – শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো

ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন রোগীর দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা উন্নত করা

 প্রতিরোধ ও সতর্কতা:

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিকিরণের সংস্পর্শ এড়ানো

হোমিওপ্যাথি ও নিউরোব্লাস্টোমা:

হোমিওপ্যাথি মূলত উপসর্গ নিরাময়ে কাজ করে এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে,

কিছু সাধারণ হোমিওপ্যাথি ওষুধ (লক্ষণভিত্তিক ব্যবহৃত হতে পারে):

1.    Carcinosinদীর্ঘস্থায়ী টিউমার ও ক্যান্সারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

2.    Conium Maculatumধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা টিউমার ও স্নায়বিক দুর্বলতার ক্ষেত্রে কার্যকর।

3.    Calcarea Phosphoricaশিশুর স্নায়বিক সমস্যা ও দুর্বলতার জন্য ব্যবহৃত হয়।

4.    Thuja Occidentalisটিউমার, ক্যান্সারাস গ্রোথ ও ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে ব্যবহৃত হয়।

5.    Siliceaশরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়ক।

6.    Arsenicum Albumকেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

7.    Phosphorusস্নায়বিক সমস্যা ও দুর্বলতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া লক্ষন ভেদে অন্য ঔষধ আসতে পারে মেটেরিকা মেডিকা অনুযায়ী।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য প্রথমেই একজন অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 চেম্বার:

ডাঃসামসুল হক
ডি.এইচ.এম.এস(বিএইচবি),বিএসসি (অনার্স),এমএসসি
বাসা-১৬,রোড-১২/বি,সেক্টর-১০,উত্তরা,ঢাকাMobile: 0153 458 8941
(What’s app & Telegram)
Email:
haque31574@gmail.com.
(
অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগের সেবা দেওয়া হয়)

হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

 হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা: হৃদরোগ ( Heart Disease) কী ? হৃদরোগ ( Heart Disease) হল এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃদপিণ্ড এবং এর সাথে স...