রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৫

মলদ্বারের ক্যান্সার(কোলন ক্যান্সার) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

 

মলদ্বারের ক্যান্সার(কোলন ক্যান্সার) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

রেকটাল ক্যান্সার (Rectal Cancer) এক ধরণের ক্যান্সার যা মলদ্বারের কোষে বিকাশ লাভ করে। আপনার মলদ্বারটি মলদ্বারের উপরে সিগময়েড কোলনের (sigmoid colon) নীচে অবস্থিত। মলদ্বারের ভিতরে (রেকটাল ক্যান্সার হিসাবে পরিচিত) এবং কোলনের ভিতরে (কোলন ক্যান্সার নামে পরিচিত) ক্যান্সার সাধারণত কলোরেটাল ক্যান্সার (colorectal cancer) হিসাবে একত্রে উল্লেখ করা হয়। সারা বিশ্বে, কলোরেক্টাল ক্যান্সার মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয় এবং পুরুষদের মধ্যে তৃতীয় সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার।

যদিও অতীতে, মলদ্বারের ক্যান্সারে আক্রান্তরা বেশিরভাগ দীর্ঘমেয়াদে বেঁচে ছিলেন না, গত কয়েক দশক ধরে উন্নত চিকিত্সার জন্য ধন্যবাদ, যার ফলে রেকটাল ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেঁচে থাকার হারে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে মলদ্বারের ক্যান্সার কোনও সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখাতে পারে না। এই রোগটি বিকাশ অব্যাহত রাখার সাথে লক্ষণগুলির মধ্যে অন্ত্রের গতিপথে পরিবর্তন, মলদ্বার রক্তপাত এবং সেইসাথে একটি পাতলা মল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অন্যান্য সংকেত ও লক্ষণও হতে পারে যেমন:

  • ক্লান্তি
  • ওজন কমা
  • মল রক্ত
  • ডায়রিয়া এবং / বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ফুলে যাওয়া (Bloating)
  • পেটে ব্যথা
  • অন্ত্রগুলি খালি করতে না পারার অনুভূতি

 

 

কোলন ক্যান্সারের কারণ কী?

কোলন ক্যান্সার কেন হয় তা পুরোপুরি জানা যায়নি। কখনও কখনও, কোলনের সুস্থ কোষগুলি ডিএনএ ত্রুটির কারণে বিভক্ত হতে থাকে, এমনকি যখন নতুন কোষের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত, কোলন ক্যান্সার পলিপ নামক কোষের একটি ছোট সংগ্রহ হিসাবে শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে, এই পলিপগুলি ক্যান্সারযুক্ত (সৌম্য) নাও হতে পারে। পরে, এই পলিপগুলি কোলন ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।

কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা

কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায় (stage), রোগীর শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য ফ্যাক্টরের উপর। প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলো—

 সার্জারি (Surgery) – ক্যান্সার আক্রান্ত টিস্যু বা কোলনের অংশ অপসারণ করা হয়
 কেমোথেরাপি (Chemotherapy) – ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ওষুধ ব্যবহার করা হয়
 রেডিয়েশন থেরাপি (Radiation Therapy) – রেডিয়েশন ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়
 টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy) – নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা করা হয়
 ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy) – শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়
 প্যালিয়েটিভ কেয়ার (Palliative Care) – রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়

 

 

 

 

 

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

রেকট্যাম ও কোলনের ক্যানসারে হোমিওপ্যাথি ষুধ বেশ ভাল কাজ করে। অনেক-ক্ষেত্রে রোগীর প্রায় সব লক্ষণই কমে রোগী দ্রুত আরোগ্যের পথে যায়।

লক্ষণ-সমষ্টির পরিপেক্ষিতে তা নির্বাচন করতে হয়। শুধু, ক্যানসার হয়েছে এ-কথা বললে কোনই ওষুধ দেওয়া যায় না।তারজন্য দরকার লক্ষণ-সমষ্টির। দরকার অদ্ভুত ও বিরল লক্ষণের। রোগীর লক্ষণ-সমষ্টির সঙ্গে মেটেরিয়া মেডিকার যে ওষুধ সদৃশতম তা দিয়েই রোগী আরোগ্য হবে।

·        বার বার কুস্থন ক্রিয়ায় মলদ্বারের পেশীতে আঘাত লাগাহেতু মলদ্বারে যন্ত্রণা,ক্ষত ও মলদ্বার নির্গত হইলে রুটা ২০০ হইতে উচ্চশক্তি।

·        মলদ্বারে ক্ষত, খোঁচামারা ব্যথা, মলত্যাগের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জ্বালাযন্ত্রণা থাকে, মলদ্বারে খোঁচামারা অনুভূতি লক্ষণে এসিড নাইট ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারে জ্বালা যন্ত্রণা ঠাণ্ডা প্রয়োগে উপশম, রোগী মোটাসোটা, ঘর্মপ্রবণ, শীতকাতর এবং পেটে অতিরিক্ত বায়ুসঞ্চয়প্রবণতা থাকিলে কেলি কার্ব ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারে ক্ষত, রস ঝরা,ব্যথা ও তীব্র স্পর্শ কাতরতা থাকিলে এসিড মিউর ২০০ হইতে।

·        প্রচণ্ড কোষ্ঠবদ্ধতা, মল নরম বা শক্ত যাহাই হউক অতিশয় কোঁথ দিয়া মলত্যাগ করিতে হয় লক্ষণে এলুমিনা ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারে ফুলকপির মত উপমাংস, উহাতে স্পর্শকাতরতা বেদনা থাকিলে স্ট্যাফিসেগ্রিয়া ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারের শুষ্কতাবোধ, ভিতর দিকে টানিয়া ধরা বোধ, ব্যথা মলদ্বার হইতে পাছা পর্যন্ত যায়, মলদ্বারে কাঠি বা কাঁচভাঙ্গা থাকা বোধ হইলে ইস্কিউলাস হিপ ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারে ক্ষত, ফাটাসহ চুলকানি থাকিলে পেট্রোলিয়াম ২০০ হইতে।

·        ঘনঘন মলবেগসহ অত্যন্ত শুলুনি, কুন্থন প্রভৃতি লক্ষণে মার্ক সল ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারে জ্বালা যন্ত্রণা, ফাটা, ক্ষত, শীতল পানি ব্যবহারে আরাম লক্ষণে এলোজ ২০০ হইতে।

·        মলদ্বার হইতে সর্বদা দুর্গন্ধ রস ঝরে লক্ষণে পিওনিয়া ৩০, ২০০ হইতে।

·        মলদ্বারে জ্বালা পোড়া, ঠাণ্ডা পানিতে বৃদ্ধি লক্ষণে সালফার ২০০ হইতে।

 

তবে মনে রাখবেন, হোমিওপ্যাথির ওষুধ ব্যক্তির নির্দিষ্ট লক্ষণ, মানসিক অবস্থা, এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে বেছে নেওয়া হয়। তাই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রতিরোধ:

দিনে কমপক্ষে 30 মিনিটের জন্য ব্যায়াম করা মলদ্বারের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন ফলমূল, শাকসবজি, গোটা দানা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও সহায়তা করতে পারে।আপনি যদি ধূমপায়ী হন তবে এটি বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি অ্যালকোহল পান করা পছন্দ করেন তবে এটি পরিমিতভাবে পান করুন। মহিলাদের জন্য, এটি দিনে একটি গ্লাস অতিক্রম করা উচিত নয়, এবং পুরুষদের জন্য, এটি দুটির চেয়ে বেশি হওয়া উচিত নয়।

 

সতর্কতাঃ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবন করুন নইলে হিতে বিপরীত হবে

চেম্বার:
ডাঃসামসুল হক
ডি.এইচ.এম.এস(বিএইচবি),বিএসসি (অনার্স),এমএসসি
বাসা-১৬,রোড-১২/বি,সেক্টর-১০,উত্তরা,ঢাকাMobile: 0153 458 8941
(What’s app & Telegram)
Email:
haque31574@gmail.com.
(
অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগের সেবা দেওয়া হয়)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

 হৃদরোগের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা: হৃদরোগ ( Heart Disease) কী ? হৃদরোগ ( Heart Disease) হল এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃদপিণ্ড এবং এর সাথে স...