হাঁপানি বা অ্যাজমা ফুসফুস এবং শ্বাসনালির প্রদাহজনিত
রোগ। হাঁপানি বলতে আমরা বুঝি শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টিজনিত শ্বাসকষ্ট। এই রোগে গলা
এবং বুকের মধ্যে শোঁ শোঁ শব্দ হয়; কাশি, বুকে চাপ অনুভব করে। ফলে, রুগী স্বল্পমাত্রায়
শ্বাস নিতে পারে। এগুলো একদিনে একাধিকবার হতে পারে আবার এক সপ্তাহে ধীরে ধীরে হতে পারে।
ব্যক্তিভেদে হাঁপানির লক্ষণগুলো রাতে, দিনে, শীতে, বর্ষায়, ভারী কাজ, ব্যায়াম বা খেলাধুলা
করলেও বেড়ে যেতে পারে।
কারণ:
হাঁপানি জিনগত এবং পরিবেশগত কারণে হয়। পারিবারিক ইতিহাসে
যাদের পিতার বা মাতার বংশে এ্যালার্জি, ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগা বা হাঁপানি রয়েছে তারা হাঁপানি
হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন। পরিবেশগত কারণগুলোর মধ্যে বায়ুুদূষণ এবং বাতাসে
এ্যালার্জেন বা এ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদানের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হাঁপানি রোগের কারণ।
হাঁপানি বা অ্যাজমা হোমিওপ্যাথিক ঔষধঃ
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে হাঁপানি রোগীরা
বিনা কষ্টে স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণরূপে স্থায়ীভাবে আরোগ্য লাভ করে। এ কারণে হাঁপানি রুগীসহ
জটিল ও দুরারোগ্য রুগীগণ সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের জন্য হোমিওপ্যাথির দিকে ঝুঁকছেন।
বিঃদ্রঃ নিজে ঔষধ না কিনে ,অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করুন।
হাঁপানি রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষণভিত্তিক আলোচনাঃ
১)একোনাইট ন্যাপ (Aconite Nap): ভীষণ হাঁপানীর টান। প্রবল শ্বাস কষ্ট। শুইতে বা বসিতে পারে না। অত্যন্ত অস্থিরতা মৃত্যু ভয়, ছটফটানি গলায় সাঁই সাঁই শব্দ।। ইত্যাদি লক্ষণে একোনাইট অব্যর্থ।
সেবন বিধিঃ- শক্তি 1x ৫/৬ ফোঁটা ৪ আউন্স জলের সহিত
মিশ্রিত করিয়া এক চামচ মাত্রা অর্ধ বা এক ঘন্টা অন্তর সেবনে খুব শীঘ্র উপকার। হয়।
শিশুদের সিকি বা অর্ধ মাত্রা।
২)ক্যানাবিস স্যাটাইবা (Cannabis Satiba): হাঁপানী কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসে অত্যন্ত কষ্ট। বুক চাপিয়া যায়। রোগী হাঁপাইতে থাকে। পাখার বাতাস চায়।
সেবন বিধিঃ- শক্তি Q
৩/৪ ফোঁটা সামান্য জলসহ দিনে চার বার।
৩)ব্লাটা ওরি (Blatta Ore): হাঁপানী কাঁশির একটি উত্তম ঔষধ। প্রবল হাঁপানীর টানের সময় ইহার ৩/৪ ফোঁটা সামান্য জলের সহিত অর্ধ বা এক ঘন্টা অন্তর কয়েক মাত্রা সেবন করিলে, হাঁপানীর টান শ্বাস কষ্টের উপশম হয়। পরে 30 শক্তি প্রত্যহ এক মাত্রা। দুই সপ্তাহ পর 200 শক্তি সপ্তাহে এক মাত্রা। এই ভাবে কিছুদিন সেবন করিলে হাঁপানীর পুনঃ আক্রমণের ভয় থাকে না।
৪)ক্যাসিয়া সোপেরা (Cassia Sophera): সর্ব প্রকার হাঁপানীতে ইহা অমোঘ অত্যন্ত শ্বাস কষ্ট সেই রূপ কাশিতে কষ্ট। রোগী শুইতে পারে না বসিয়া থাকিতে বাধ্য হয় কাশিতে ভীষণ কষ্ট ইহার প্রধান পরিচয়।
সেবন বিধি: শক্তি ৭৫ ফোঁটা অর্ধ ছটাক
জলসহ সকাল ও সন্ধ্যায় দিনে দুই বার ১৫ দিন সেবনে হাঁপানী পীড়া সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়।
৫)এরালিয়া (Aralia): গলায় সাঁই সাঁই শব্দ, শুইতে বা হাঁটিতে দম বন্ধের ভাব হয়। হাঁটুর উপর ভর দিয়া মাথা হেট করিয়া বসিয়া থাকে। শ্বাস লইতে অত্যন্ত কষ্ট। সহজে নিঃশ্বাস ফেলিতে পারে। সেবন বিধিঃ- শক্তি Q ৩/৪ ফোঁটা অর্ধ ছটাক জলসহ দিনে চার বার।
৬)প্যাসিফ্লোরা (Passiflora):-অত্যন্ত কষ্টদায়ক হাঁপানী, বুক সাঁটিয়া ধরে। গলায় সাঁই সাঁই শব্দ, অত্যন্ত কষ্টকর কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট ইত্যাদি লক্ষণে ইহা অমোঘ।
সেবন বিধি:- শক্তি ০ ১৫/২০ ফোঁটা এক
আউন্স জলে মিশ্রিত করিয়া এক ঘন্টা অন্তর কয়েক মাত্রা সেবনে হাঁপানি টানের উপশম হয়।
৭)এসপিডোসপার্থী (Aspidesperma)- হাঁপানী রোগের উৎকৃষ্ট ঔষধ। ইহা ফুসফুসকে বল প্রদান ও রক্তে অক্সিজেন বৃদ্ধি করে। ফলে অতি শীঘ্রই শ্বাস কষ্ট দূর হয়। হাঁপানী রোগে ইহা দ্বারা উপকার হয়। সামান্য পরিশ্রমে শ্বাস কষ্ট হয়। হাঁপা হাঁসি করিতে থাকে।
সেবন বিধিঃ শক্তি ৪/৫ ফোঁটা আধা কাপ জলের সহিত দিনে তিন চার বার।
৮)হিপার সালফ (Heper Sulph):- শীত বা গ্রীষ্ম কালে হাঁপানীর টান বাড়ে। বর্ষায় ভাল থাকে। এই লক্ষণে ইহা ব্যবহারে উত্তম ফল পাওয়া যায়।
সেবন বিধি ৪ শক্তি 30 বা 200 দিনে দুই মাত্রা।
৯)ক্যালি বাইক্রম (Kali
Bichrom)-ঠান্ডা লাগিলে হাঁপানীর টান বাড়ে। কাশিতে কাশিতে আঠার মত
কফ্ উঠে। কফ্ ফেলিতে সুতার মত লম্বা হইয়া পড়ে। বাত্রে শুইলে শ্বাস কষ্ট বাড়ে।
শিশুদের হাঁপানী পীড়ায় এই ঔষধের ও শক্তি ২/১ ফোঁটা সামান্য জলসহ দিনে দুই তিন বার
সেবন করিতে দিয়া বহু রোগী আরোগ্য হইয়াছে। কিন্তু অধিক দিন ঔষধ ব্যবহার করিতে হয়।
১০)ওসিমাম স্যাঙ্কট্রাম (Ocimum Sanctum):- অত্যন্ত বিটখিটে মেজাজের শিশু, অল্পতেই চটিয়া উঠে। সর্দি, ঠান্ডা, লাগিলেই হাঁপানীর টান বাড়ে। গলায় সাঁই সাঁই, ঘড় ঘড়
শব্দ, শ্বাস-প্রশ্বাসের টানে টানে বুকের পাজর চাপিয়া যায়।
শিশুদের হাঁপানী নীড়ায় ভাল কাজ করে।
সেবন বিধি:- শক্তি 1x, 3x দুই তিন ফোঁটা সামান্য
জলের সঙ্গে দিনে চার বার।
১১)আর্সেনিক এলব (Arsenic
Alb)ঃ-যন্ত্রণা দায়ক হাঁপানী, অন্তর্দাহ,
ছটফটানি, মৃত্যু ভয়, গলায়
সাঁই সাঁই শব্দ, শুইতে অক্ষমতা, মাথা
নীচু করিয়া বালিশে ভর দিয়া বসিয়া থাকে। রাত্রে ১২টা থেকে ২টায় বোগ যন্ত্রণার
বৃদ্ধি।
সেবন বিধিঃ- শক্তি 30
বা 200 দিনে দুই মাত্রা।
১২) ইপিকাক (Ipecac):
প্রবল হাঁপানীর টান বুকে সাঁই সাঁই ঘড় ঘড় শব্দ, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, শুইলে শ্বাস কষ্ট বাড়ে।
কষ্টকর কাশি, গা বমি বমি মাঝে মাঝে ভুক্ত দ্রব্য বমি। সেবন
বিধি:- শক্তি 3x ৩/৪ ফোঁটা সামান্য জলসহ দুই এক ঘন্টা অন্তর।
বিঃদ্রঃ নিজে ঔষধ না কিনে ,অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করুন।
ডাঃসামসুল হক
ডি এইচ এম এস(বিএইচবি)
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল
কলেজ ও হাসপাতাল,ঢাকা।
বাসা-১৬,রোড-১২/বি,সেক্টর-১০,উত্তরা,ঢাকা.
Mobile: 0153 458 8941 (What’s
app)
(অনলাইনে
ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগের সেবা দেওয়া হয়)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন