রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা
বেড়ে গেলে প্রস্রাবের রং,
চোখের শ্বেতমণ্ডল বা স্ক্লেরা, ত্বক ও মুখের
ভেতর হলুদ দেখায়। এই পরিস্থিতিকে আমরা জন্ডিস বলে জানি। যকৃৎ বা পিত্তনালির কোনো
সমস্যা দেখা দিলেই জন্ডিস হয়ে থাকে সাধারণত। রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা এ সময় ৩
মিলিগ্রাম বা ডেসিলিটারের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।
জন্ডিস কেন হয়ঃ
মূলত তিনটি কারণে জন্ডিস
দেখা দেয়। এক. হেপাটাইটিস বা যকৃতের প্রদাহ। দুই. পিত্তনালির ব্লক বা পিত্তরসের
পথে বাধা। তিন. হিমোলাইসিস বা সময়ের আগেই রক্তের লোহিত রক্তকণিকার ভেঙে যাওয়া।
জন্ডিসের কিছু লক্ষণ যা লক্ষ্য রাখতে হবে:
- হলুদ ত্বক
এবং চোখ
- গাঢ় রঙের
প্রস্রাব
- ফ্যাকাশে
বা মাটির রঙের মল
- বমি এবং
বমি বমি ভাব
- ক্ষুধামান্দ্য
- পেটে ব্যথা
- অব্যক্ত
ওজন হ্রাস
- পেশী এবং
যৌথ ব্যথা
- প্রচন্ড
জ্বর
- শরীর
ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
- Itchy চামড়া
১) হাইড্রাসটিস (Hydrastis):
চক্ষু, প্রস্রাব,
চর্ম হলুদ বর্ণ দেখায় মুখে অরুচি। জিহবা শ্বেতবর্ণ মাঝে মাঝে বমির
ভাব।
সেবন বিধিঃ- শক্তি) ৩-৪ ফোঁটা অর্থ ছটাক জলের সহিত দিবসে তিন চার বার। 2x রা 3x ও উপকারী।
সেবন বিধিঃ- শক্তি Q৪-৫ ফোঁটা সামান্য ঠান্ডা
জলের সহিত দিনে চার বার।
সেবন বিধিঃ- শক্তি Q
৪/৫ ফোঁটা সামান্য ঠান্ডা পানিসহ দিনে চার বার।
৪) মাইরিকা (Myrica):
চোখ হরিদ্রা বর্ণ, জিহ্বায় হলদে ময়লার প্রলেপ।
প্রস্রাব হলুদ বা ঘোলা, ঘুম ঘুম ভাব, অক্ষুধা
বমি বমি ভাব, মুখমন্ডল হলুদ বর্ণ। নবজাত শিশুর জন্ডিস রোগে
অতি ফলপ্রদ ঔষধ। সেবন বিধিঃ- শক্তি Q১/৪ ফোঁটা (বয়স অনুপাতে)
সামান্য জলসহ দিনে তিন চার মাত্রা।
৫) ইলাটিরিয়ম (Elaterium):
সদ্য প্রসূত নবজাত শিশুর পিত্তভেদ চক্ষু প্রস্রাব হলুদ বর্ণ,
বমি ইত্যাদি লক্ষণে শিশুর জন্ডিস রোগে ইহা উপকারী। সেবন বিধিঃ-
শক্তি 3x বা 6 দিনে চার বার।
বিঃদ্রঃ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করুন।
জন্ডিসের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিক খাদ্য
তালিকা অনুসরণ করা। জন্ডিস রোগীদের ফ্যাটযুক্ত খাবার বর্জনই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি দরকার সঠিক খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা।
জন্ডিস রোগীদের খাদ্য তালিকাঃ
১. টমেটো ভিটামিন `সি`র
অন্যতম উৎস। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন, যা এন্টি অক্সিডেন্ট।
তাই টমেটোর জুস লিভারের কোষকে তেজোদীপ্ত করে।
২.আমলকী ভিটামিন সির গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। আমলকী কাঁচা, শুকিয়ে অথবা জুস করে খেলে তা লিভারের কোষের জন্য
খুবই উপকারী। এটি লিভারকে পরিশোধন করতে সহায়ক।
৩. পুদিনা পাতা লিভার ফাংশনের জন্য খুবই উপকারী।প্রতিদিন সকালে
চার-পাঁচটি পুদিনা পাতা খেলে জন্ডিসের জন্য ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
৪. লেবুর রস পাকস্থলীর জন্য সহায়ক। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি
মিশিয়ে লেবুর রস খেলে আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালো কাজ করবে।
৫. লিভার পরিশোধনে আনারস খুবই উপকারী। জন্ডিস থেকে আরোগ্য লাভের
জন্য আনারস খুবই কার্যকর একটি ফল।
৬. আখের শরবতও জন্ডিসের জন্য উপকারী।
৭. পেঁপে, কলা, আপেল,মাল্টা, জন্ডিসের পথ্য হিসেবেকাজ করে।
বিঃদ্রঃ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করুন।
ডাঃসামসুল হক
ডি এইচ এম এস(বিএইচবি)
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল
কলেজ ও হাসপাতাল,ঢাকা।
বাসা-১৬,রোড-১২/বি,সেক্টর-১০,উত্তরা,ঢাকা
Mobile:
0153 458 8941 (What’s app)
(অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে
রোগের সেবা দেওয়া হয়)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন